প্রবাস জীবন ছেড়ে ইউটিউবে সফল স্বপন খান

করোনার এই সময়ে বাচ্চা থেকে বুড়ো সবারই বিনোদনের অন্যতম প্রধান মাধ্যম হিসেবে কাজ করছে ইউটিউব। এমন কাউকে খুঁজে পাওয়া যাবেনা যিনি ইন্টারনেট ব্যবহার করেন কিন্তু ইউটিউব ভিডিও দেখে না।

শিক্ষা, বিনোদন, খেলা, সংবাদ, তথ্য প্রযুক্তি, সাজসজ্জা, রান্না ও ভ্রমণ থেকে শুরু করে প্রায় সব ধরনের ভিডিও পাওয়া যায় ইউটিউবে। ইউটিউব যেমন শিক্ষা-বিনোদনের অন্যতম মাধ্যম। তেমনি ইউটিউব থেকে অর্থ উপার্জন করার জন্য তরুণদের প্রথম পছন্দ হয়ে উঠছে। ইউটিউবে চ্যানেল তৈরি করে যেমন স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারবেন তেমন আয়ও করতে পারেন ভালো। একজন সফল ইউটিউবার হতে চাইলে অবশ্যই ধৈর্য ও সততার পরিচয় দিতে হবে আপনাকে । আপনার ভিডিওর বিষয়বস্তু হতে হবে নিজস্বতা থাকতে হবে। চ্যানেল তৈরি করার সঙ্গে সঙ্গেই হাজার হাজার ভিউ বা সাবস্ক্রাইব হবে বা হাজার হাজার টাকা আয় হবে তা আসলে ঠিক না। তবে সফলতার জন্য সময় ও শ্রম দুটোই লাগবে। প্রথমেই আপনাকে ঠিক করতে হবে আপনি কোন বিষয় নিয়ে কাজ করতে চান। যেমন শিক্ষা, বিনোদন, প্রযুক্তি, রান্না, ফ্যাশন, ভ্রমণ, মজার ভিডিও ইত্যাদি নিয়ে ইউটিউবে চ্যানেল তৈরি করতে পারেন। তবে যেকোনো একটি নির্দিষ্ট বিষয় নিয়ে কাজ করলে দর্শকের কাছে তা বেশি গ্রহণযোগ্য হয়ে থাকে। এখন ভিডিও ব্লগ বা ব্লগিংও বেশ জনপ্রিয়।তেমনই একজন জনপ্রিয় ব্লগার স্বপন খান ( https://youtube.com/c/ShaponKhanVlogs ) আজকে আমরা তার ইউটিউবে পথ চলার যাত্রা কিভাবে তাই জানাবো আপনাদের। একজন সাধারণ প্রবাসী বাংলাদেশি শ্রমিক হিসেবে তিনি অবৈধভাবে মালোইশিয়াতে দিনের পরে দিন কাটিয়েছেন। অনেক পরিশ্রম করে যখন কোন কিছু করে উঠতে পারছিলেন না। তখন স্বপ্ন জাগে ইউটিউব ভিডিওর মাধ্যমে কিভাবে আয় করা যায়।

যে ভাবা সেই কাজ তারই পরিচিত তিনিও বিখ্যাত ইউটিউবার নাভিন ব্লগের কর্ণধার নাভিন সাহেবের পরামর্শ আর সহযোগিতায় হাটি হাটি পা পা করে আজকে সফল ইউটিউবার হয়ে দেশের জন্য রেমিট্যান্স নিয়ে আসছে। তিনি মনে করেন প্রত্যেক ইউটিউবার এক একজন রেমিট্যান্স যোদ্ধা। এবিষয়ে তার কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন দেখুন। আমি অতি সাধারণ ঘরের সন্তান। ২০১৭সালে মালায়াশিয়াতে কাজের সন্ধানে একজন শ্রমিক হিসেবে পাড়ি জমাই ।সেখানে প্রথমে আমি ছিলাম অবৈধভাবে তাই অনেক চড়াই-উৎরাই করে খেয়ে না খেয়ে দিন কাটাতাম। তারপর ভাবলাম এভাবে আর কতোদিন। কিছু একটা আমাকে করতেই হবে। যেই ভাবা সেই কাজ। তখন আমার অত্যন্ত প্রিয় কাছের ছোট ভাই নাভিন আমাকে বল্লো আপনি মালাইশিয়াতে বসেই ইউটিউবের জন্যে ভিডিও নির্মাণ করতে থাকুন। তারপর একটা ইউটিউব চ্যানেল খুলে কাজ শুরু করি। আমি সেখানে অবৈধভাবে থাকার ফলে তেমন কিছুই করতে পারছিলাম না। তখন হঠাৎ মাথায় আইডিয়া আসলো নিজের দেশ সম্পর্কে বিদেশের মানুষের কাছে প্রশ্ন করবো তারা কতোটুকু চেনে আমাদের। আমাদের সংস্কৃতি ইত্যাদি তুলে ধরার চেষ্টা করি৷ তারপর আমি ইউটিউব ভিডিও আপলোড করি। এভাবে বাংলাদেশ সম্পর্কে প্রশ্ন করতাম, ভালোলাগা মন্দ লাগা ইত্যাদি জানতে চাইতাম। তারপর আস্তে আস্তে হয়ে গেছে দেখলাম ভালোই সারা পাচ্ছি। সবাই প্রশংসা করছে। এই বিষয়ে মানে ইউটিউব নিয়ে আমার কোন প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা নেই ইউটিউবে আমার ছোট ভাই নাভিনের থেকেই আসলে অনুপ্রেরণা ও প্রাথমিক প্রচেষ্টায় শুরু করি। সকলের সহযোগিতায় আজকের এই আমি। আপনারা জানেন আমি একটু তোতলানোর মতো কথা বলি কিন্তু এখনো চেষ্টা করছি প্রতিনিয়ত নিজেকে ঠিক করতে। যারা এই পেশায় আসতে চায় তাদের বলবো শুধু মাত্র ইউটিউবের উপর ভরসা করে আপনি সফল হতে পারবেন না তাই আপনারা যদি কোন কাজের পাশাপাশি শুরু করেন তাহলে বেশি ভালো হয়। আপনার প্রাথমিক ভাবে প্রথম এক বছর কোন রকম ইনকামের চিন্তা করলে হবে না প্রথমে ইনভেস্ট করতে হবে। আপনার পরিশ্রম, সময়কে ইনভেস্ট করতে হবে।

মেধার পূর্ণ ব্যবহার করতে হবে। তিনি আরও বলেন, যারা ইউটিউবার তারা তো আসলে রেমিট্যান্স বৃদ্ধিতে সাহায্য করছে। তাই আমরা চাই সরকার আমাদের কে নিয়ে ভাবুক। আমাদের জন্যে তারা কিছু নীতিমালা তৈরি করুক। আমাদের আয়ের একটা বড় অংশ ইউটিউব নিয়ে নিচ্ছে। যা চলে যাচ্ছে বিদেশে কিন্তু যদি সরকার আমাদের জন্যে একটু সুনজর দিতো তাহলে হয়তো বেকারত্ব নিরসনের জন্য ইউটিউবের ইনকাম সহায়ক ভূমিকা পালন করতো। সুনির্দিষ্ট নীতিমালা তৈরি করলে আমাদের জন্যে ভালো হয়। আপনাদের মাধ্যমে সরকারকে বলতে চাই,আমাদের জন্য যদি একটা ফান্ড সৃষ্টি করা যায়। তাহলে আমাদের ভবিষ্যত প্রজন্ম আরও বেশি ইউটিউবে কাজ করতে পারবে। এবং দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন সাধিত করতে পারবে। আমরা সকালে সামাজিক ও সরকারের উন্নয়ন মূলক তথ্য চিত্র গুলো তুলে ধরতে সহায়তা করতে পারি। বিজ্ঞাপন এর জন্যে প্রচুর অর্থ ব্যয় করে সরকার অথচ ইউটিউবারদের মাধ্যমে অনেক কম খরচে আপনি বিজ্ঞাপন দিতে পারেন। আমরা অচিরেই সকল ইউটিউবারদের নিয়ে একটা বৃহৎ সংগঠন তৈরি করবো। যেখানে সকল ইউটিউবাররা একই ছাতার নিচে একত্রে কাজ করবে। আপনাদের মাধ্যমে আমি আবারও সকল তরুণ প্রজন্মের প্রতি বলতে চাই ঘরে বসে না থেকে কিছু না কিছু শুরু করুক তাহলে আমার মতো অন্তত সচ্ছল জীবন যাপন করা সম্ভব। আলহামদুলিল্লাহ আমি ভালো করছি আপনারাও ভালো করবেন।

দৈনিক আমার সময়ের সকল পাঠকের প্রতি রইলো অবিরাম ভালোবাসা শুভেচ্ছা আমার জন্যে আপনারা দোয়া করবেন যেনো আরও বেশি বেশি ভিডিও আপনাদেরকে দিতে পারি। নিয়মিত আমার সময় পড়ুন। সাথে থাকুন পাশে থাকবো।